০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

রাঙামাটিতে অবৈধ ইটভাটায় সাঁড়াশি অভিযান, ৭ মামলা; সাবেক চেয়ারম্যানসহ আ.লীগ নেতা আসামি

আলমগীর মানিক
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:২০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩১ বার পড়া হয়েছে।

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:

পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ, কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি এবং পরিবেশের ছাড়পত্র ও সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। জেলার কাউখালী, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটার চিমনি স্ক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাসহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা এবং পাহাড় কাটার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উগলছড়ি এলাকায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ৪ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে ইটভাটাটির কার্যক্রমের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাক লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ৫ অক্টোবর বাঘাইছড়ি থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ১৫(১) ধারার টেবিল-১২ অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় বাঘাইছড়ির পুরাতন মারিশ্যা এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ:লীগ নেতা অলিভ চাকমা ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উগলছড়ি এলাকায় একটি ইটভাটার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৫ অক্টোবর বাঘাইছড়ি থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলার ডাকঘরপাড়া-বেতবুনিয়া এলাকায় তিনটি ইটভাটার কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর রাঙামাটি জেলা কার্যালয় থেকে পৃথক নোটিশে মেসার্স এসবিউব্লিউ, মেসার্স এএমবি (AMB) ও মেসার্স এমএনএম ব্রিকসের মালিক/স্বত্বাধিকারীদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানোর কারণে বনভূমি ধ্বংস ও বায়ুদূষণ হচ্ছে। অন্যদিকে ইট তৈরিতে পাহাড় ও কৃষিজমির মাটি ব্যবহারের ফলে কৃষিজমির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড়ের টপসয়েল নষ্ট, পাহাড়ের ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি, মাটির ভূ-গঠনে পরিবর্তন, সিলটেশন বৃদ্ধি এবং খাদ্যনিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাবের কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু নোটিশ দিয়ে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেনি প্রশাসন। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বিত অভিযানে অবৈধ ইটভাটার চিমনি স্ক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড় কাটার অভিযোগে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, কাউখালী, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে একদিকে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে পাহাড় কেটে ইট তৈরির মাটি সংগ্রহের প্রবণতা ঠেকাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম অভিযান ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর। পাহাড়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক না কেন, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না। পরিবেশ সুরক্ষায় যা যা করণীয়, সবই করা হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাঙামাটিতে অবৈধ ইটভাটায় সাঁড়াশি অভিযান, ৭ মামলা; সাবেক চেয়ারম্যানসহ আ.লীগ নেতা আসামি

আপডেট সময়ঃ ০৭:২০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:

পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ, কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি এবং পরিবেশের ছাড়পত্র ও সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। জেলার কাউখালী, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটার চিমনি স্ক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাসহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা এবং পাহাড় কাটার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উগলছড়ি এলাকায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ৪ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে ইটভাটাটির কার্যক্রমের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাক লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ৫ অক্টোবর বাঘাইছড়ি থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ১৫(১) ধারার টেবিল-১২ অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় বাঘাইছড়ির পুরাতন মারিশ্যা এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ:লীগ নেতা অলিভ চাকমা ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উগলছড়ি এলাকায় একটি ইটভাটার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৫ অক্টোবর বাঘাইছড়ি থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলার ডাকঘরপাড়া-বেতবুনিয়া এলাকায় তিনটি ইটভাটার কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর রাঙামাটি জেলা কার্যালয় থেকে পৃথক নোটিশে মেসার্স এসবিউব্লিউ, মেসার্স এএমবি (AMB) ও মেসার্স এমএনএম ব্রিকসের মালিক/স্বত্বাধিকারীদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানোর কারণে বনভূমি ধ্বংস ও বায়ুদূষণ হচ্ছে। অন্যদিকে ইট তৈরিতে পাহাড় ও কৃষিজমির মাটি ব্যবহারের ফলে কৃষিজমির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড়ের টপসয়েল নষ্ট, পাহাড়ের ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি, মাটির ভূ-গঠনে পরিবর্তন, সিলটেশন বৃদ্ধি এবং খাদ্যনিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাবের কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু নোটিশ দিয়ে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেনি প্রশাসন। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বিত অভিযানে অবৈধ ইটভাটার চিমনি স্ক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড় কাটার অভিযোগে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, কাউখালী, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে একদিকে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে পাহাড় কেটে ইট তৈরির মাটি সংগ্রহের প্রবণতা ঠেকাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম অভিযান ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর। পাহাড়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক না কেন, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না। পরিবেশ সুরক্ষায় যা যা করণীয়, সবই করা হবে।