০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

টাকা উদ্ধারে জোড়ালো ভূমিকা নেই কর্তৃপক্ষের আদমদীঘিতে জলমহাল ইজারার ১২ লাখ টাকা নিয়ে উধাও

আমিনুল ইসলাম সোহাগ
  • আপডেট সময়ঃ ১০:০৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৯ বার পড়া হয়েছে।

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চলতি বছরে জলমহাল ইজারা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ১ম ও ২য় দফায় ডিসিআর ও চুক্তিনামা ফি বাবদ ১২ লাখ টাকা জমা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে। এদিকে জলমহাল ইজারার প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হলেও উপজেলা জলমহাল কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম ও সহকারি কমিশনার (ভুমি) আশরাফুল ইসলামের পক্ষ থেকে ওই টাকা উদ্ধারে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাছাড়া ইজারা গ্রহীতারা টাকা জমা দেওয়ার পর ডিসিআর, চুক্তিনামা ও পুকুরের দখল না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে একাধিক লীজ গ্রহিতারা। এদিকে রহস্যজনক কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে অফিসের কর্মচারি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ তার নিজ কর্মস্থলে না আসায় অসন্তোষ বিরাজ করছে লীজ গ্রহিতাদের মাঝে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা জলমহাল কমিটি বাংলা ১৪৩৩ হতে ১৪৩৫ সন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির মাধ্যমে সরকারি জলমহাল ইজারার জন্য চলতি সনের এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে দরপত্র আহবান করেন। ওই দরপত্রে মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১০ পুকুর প্রথম দফায় ইজারা প্রদান করা হয়। এরপর গত মে মাসে দ্বিতীয় দফায় জলমহাল ইজারার জন্য দরপত্র আহবান করেন উপজেলা জনমহাল ইজারা কমিটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফার দরপত্রে ৮১ টি সিডিউল দাখিল হয়। জলমহাল ইজারা কমিটি দরপত্র যাচাই বাছাই করে ৬৬ টি পুকুরের দরপত্র অনুমোদন দেন। সেই মোতাবেক ইজারা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত ৬৬টি পুকুর ইজারা প্রাপ্তদের ডিসিআরের ও চুক্তিনামার কাগজাদি বাবদ টাকা জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়। সে মোতাবরক ইজারাপ্রাপ্ত সমিতি কর্তৃপক্ষ তাদের টাকা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) কার্যালয়ের ক্রেডিট চেকিং ও সয়রাত সহকারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ’র কাছে নগদ টাকা প্রদান করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য। পরে কর্মচারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ মাত্র কয়েকটি পুকুরের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে এ পর্যন্ত ২৩ জনকে ডিসিআর প্রদান করেন। আর তার কাছে থাকা জমার ১২ লাখ টাকা নিয়ে প্রায় দেড় মাস আগে হঠাৎ করে অফিস থেকে উধাও হয়ে যায়। এরপর অদ্যবধি তিনি অফিসে যোগদান করেনি। এব্যাপারে সহকারি কমিশনার (ভুমি) আশরাফুল ইসলাম তার কার্যালয়ের কর্মচারি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ’র বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান কোন পদক্ষপ গ্রহন না করায় জলমহাল ইজারাপ্রাপ্তদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, উপজেলার কাশিমালকুড়ি বেকার সমিতি, বিনসারা বেকার সমিতি, মুরইল বেকার সমিতিসহ বেশ কিছু সমিতি কর্তৃপক্ষ ডিসিআর পায়নি এখনো। এমতাবস্থায় তারা যখন জলমহাল বা পুকুর দখল পাবেন ততক্ষণে চলে যাবে কয়েক মাস। কিন্তু তাদের তো সে সমযটা কমিটি বর্ধিত করে দেবে না। তিন বছরের মেয়াদ শেষ হবার পরই দখল ছেড়ে দিতে হবে। ফলে ইজারা প্রাপ্তরা লোকসানের আশংকায় শংকিত হয়ে পড়েছেন। এবিষয়ে জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, এব্যাপারটি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ইতিমধ্যে ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ কিছু টাকা ফেরত প্রদান করেছে ও কিছু লীজ গ্রহিতাকে ডিসিআরও দেওয়া হয়েছে। টাকা উদ্ধার হলে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ইতিমধ্যে তিনি কিছু টাকা ফেরত প্রদান করেছে ও কিছু লীজ গ্রহিতাকে ডিসিআরও দেওয়া হয়েছে। টাকা উদ্ধার হলে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

টাকা উদ্ধারে জোড়ালো ভূমিকা নেই কর্তৃপক্ষের আদমদীঘিতে জলমহাল ইজারার ১২ লাখ টাকা নিয়ে উধাও

আপডেট সময়ঃ ১০:০৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চলতি বছরে জলমহাল ইজারা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ১ম ও ২য় দফায় ডিসিআর ও চুক্তিনামা ফি বাবদ ১২ লাখ টাকা জমা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে। এদিকে জলমহাল ইজারার প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হলেও উপজেলা জলমহাল কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম ও সহকারি কমিশনার (ভুমি) আশরাফুল ইসলামের পক্ষ থেকে ওই টাকা উদ্ধারে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাছাড়া ইজারা গ্রহীতারা টাকা জমা দেওয়ার পর ডিসিআর, চুক্তিনামা ও পুকুরের দখল না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে একাধিক লীজ গ্রহিতারা। এদিকে রহস্যজনক কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে অফিসের কর্মচারি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ তার নিজ কর্মস্থলে না আসায় অসন্তোষ বিরাজ করছে লীজ গ্রহিতাদের মাঝে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা জলমহাল কমিটি বাংলা ১৪৩৩ হতে ১৪৩৫ সন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির মাধ্যমে সরকারি জলমহাল ইজারার জন্য চলতি সনের এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে দরপত্র আহবান করেন। ওই দরপত্রে মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১০ পুকুর প্রথম দফায় ইজারা প্রদান করা হয়। এরপর গত মে মাসে দ্বিতীয় দফায় জলমহাল ইজারার জন্য দরপত্র আহবান করেন উপজেলা জনমহাল ইজারা কমিটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফার দরপত্রে ৮১ টি সিডিউল দাখিল হয়। জলমহাল ইজারা কমিটি দরপত্র যাচাই বাছাই করে ৬৬ টি পুকুরের দরপত্র অনুমোদন দেন। সেই মোতাবেক ইজারা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত ৬৬টি পুকুর ইজারা প্রাপ্তদের ডিসিআরের ও চুক্তিনামার কাগজাদি বাবদ টাকা জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়। সে মোতাবরক ইজারাপ্রাপ্ত সমিতি কর্তৃপক্ষ তাদের টাকা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) কার্যালয়ের ক্রেডিট চেকিং ও সয়রাত সহকারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ’র কাছে নগদ টাকা প্রদান করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য। পরে কর্মচারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ মাত্র কয়েকটি পুকুরের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে এ পর্যন্ত ২৩ জনকে ডিসিআর প্রদান করেন। আর তার কাছে থাকা জমার ১২ লাখ টাকা নিয়ে প্রায় দেড় মাস আগে হঠাৎ করে অফিস থেকে উধাও হয়ে যায়। এরপর অদ্যবধি তিনি অফিসে যোগদান করেনি। এব্যাপারে সহকারি কমিশনার (ভুমি) আশরাফুল ইসলাম তার কার্যালয়ের কর্মচারি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ’র বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান কোন পদক্ষপ গ্রহন না করায় জলমহাল ইজারাপ্রাপ্তদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, উপজেলার কাশিমালকুড়ি বেকার সমিতি, বিনসারা বেকার সমিতি, মুরইল বেকার সমিতিসহ বেশ কিছু সমিতি কর্তৃপক্ষ ডিসিআর পায়নি এখনো। এমতাবস্থায় তারা যখন জলমহাল বা পুকুর দখল পাবেন ততক্ষণে চলে যাবে কয়েক মাস। কিন্তু তাদের তো সে সমযটা কমিটি বর্ধিত করে দেবে না। তিন বছরের মেয়াদ শেষ হবার পরই দখল ছেড়ে দিতে হবে। ফলে ইজারা প্রাপ্তরা লোকসানের আশংকায় শংকিত হয়ে পড়েছেন। এবিষয়ে জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, এব্যাপারটি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ইতিমধ্যে ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ কিছু টাকা ফেরত প্রদান করেছে ও কিছু লীজ গ্রহিতাকে ডিসিআরও দেওয়া হয়েছে। টাকা উদ্ধার হলে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ইতিমধ্যে তিনি কিছু টাকা ফেরত প্রদান করেছে ও কিছু লীজ গ্রহিতাকে ডিসিআরও দেওয়া হয়েছে। টাকা উদ্ধার হলে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।