০৪:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

কেশবপুরে বুড়িভদ্রা নদীতে ৪ হাজার মিটার কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস

আবুজার গিফারী
  • আপডেট সময়ঃ ১০:৫০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে।

আবুজার গিফারী যশোর:

যশোরের কেশবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন বুড়িভদ্রা নদীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ছয়টি পাটা বাঁধ উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় ১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৩ হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসার, কেশবপুর থানার এএসআই সঞ্জয় বিশ্বাসসহ পুলিশের সদস্যরা। এ ছাড়া ত্রিমোহনী ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের আনসার দলনেতা এবং স্থানীয় জনগণ অভিযানে অংশ নেন।

নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ

বুড়িভদ্রা নদী কেশবপুরের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নদীতে অবৈধভাবে পাটা বাঁধ স্থাপন এবং কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার মাছের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজননে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে এসব জালে ছোট মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী আটকা পড়ায় জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বক্তব্য হিসেবে বলা যেতে পারে—“নদী, খাল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অবৈধ বাঁধ ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।”

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ

অভিযানে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার উপস্থিত থেকে কার্যক্রমে অংশ নেন। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নদী ও জলাশয়ে ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জালে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নির্বিচারে আটকা পড়ে। এতে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসারের বক্তব্য হিসেবে বলা যেতে পারে—“দেশীয় মাছের প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। নদী ও জলাশয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার থেকে বিরত থাকতে হবে। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জেলে, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ভূমি প্রশাসনের ভূমিকা

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধভাবে স্থাপিত বাঁধ অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে এ ধরনের অভিযান নদী ও জলাশয় সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখের বক্তব্য হিসেবে বলা যেতে পারে—“নদী ও সরকারি জলসম্পদের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে অবৈধ স্থাপনা ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকা দরকার।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের অংশগ্রহণ

মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অভিযান বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন কেশবপুর থানার এএসআই সঞ্জয় বিশ্বাসসহ পুলিশের সদস্যরা। এ ছাড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসার এবং ত্রিমোহনী ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের আনসার দলনেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানের সময় অবৈধভাবে স্থাপিত ছয়টি পাটা বাঁধ উচ্ছেদ এবং জব্দ করা মোট ৪ হাজার মিটার কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এতে ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নদীর পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দেওয়া হয়।

নদী রক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা কাম্য

নদী ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতাও অপরিহার্য। নদীতে অবৈধ পাটা বাঁধ স্থাপন, ক্ষতিকর জাল ব্যবহার এবং মাছের প্রজননক্ষেত্র নষ্ট করার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে পরিচালিত এ অভিযান বুড়িভদ্রা নদীর পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নিয়মিত তদারকি, আইনানুগ ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার কমানো সম্ভব হবে।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কেশবপুরে বুড়িভদ্রা নদীতে ৪ হাজার মিটার কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস

আপডেট সময়ঃ ১০:৫০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আবুজার গিফারী যশোর:

যশোরের কেশবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন বুড়িভদ্রা নদীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ছয়টি পাটা বাঁধ উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় ১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৩ হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসার, কেশবপুর থানার এএসআই সঞ্জয় বিশ্বাসসহ পুলিশের সদস্যরা। এ ছাড়া ত্রিমোহনী ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের আনসার দলনেতা এবং স্থানীয় জনগণ অভিযানে অংশ নেন।

নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ

বুড়িভদ্রা নদী কেশবপুরের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নদীতে অবৈধভাবে পাটা বাঁধ স্থাপন এবং কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার মাছের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজননে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে এসব জালে ছোট মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী আটকা পড়ায় জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বক্তব্য হিসেবে বলা যেতে পারে—“নদী, খাল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অবৈধ বাঁধ ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।”

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ

অভিযানে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার উপস্থিত থেকে কার্যক্রমে অংশ নেন। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নদী ও জলাশয়ে ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জালে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নির্বিচারে আটকা পড়ে। এতে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসারের বক্তব্য হিসেবে বলা যেতে পারে—“দেশীয় মাছের প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। নদী ও জলাশয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার থেকে বিরত থাকতে হবে। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জেলে, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ভূমি প্রশাসনের ভূমিকা

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধভাবে স্থাপিত বাঁধ অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে এ ধরনের অভিযান নদী ও জলাশয় সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখের বক্তব্য হিসেবে বলা যেতে পারে—“নদী ও সরকারি জলসম্পদের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে অবৈধ স্থাপনা ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকা দরকার।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের অংশগ্রহণ

মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অভিযান বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন কেশবপুর থানার এএসআই সঞ্জয় বিশ্বাসসহ পুলিশের সদস্যরা। এ ছাড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসার এবং ত্রিমোহনী ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের আনসার দলনেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানের সময় অবৈধভাবে স্থাপিত ছয়টি পাটা বাঁধ উচ্ছেদ এবং জব্দ করা মোট ৪ হাজার মিটার কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এতে ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নদীর পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দেওয়া হয়।

নদী রক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা কাম্য

নদী ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতাও অপরিহার্য। নদীতে অবৈধ পাটা বাঁধ স্থাপন, ক্ষতিকর জাল ব্যবহার এবং মাছের প্রজননক্ষেত্র নষ্ট করার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে পরিচালিত এ অভিযান বুড়িভদ্রা নদীর পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নিয়মিত তদারকি, আইনানুগ ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার কমানো সম্ভব হবে।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।