০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

এমপি হলে সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়নকাজের হিসাব বিলবোর্ডে প্রকাশ করব: দেলাওয়ার হোসেন

রহমত আরিফ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:১৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে।

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দ ও এলাকার উন্নয়নকাজের বিস্তারিত তথ্য বিলবোর্ডের মাধ্যমে জনগণের সামনে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সার সংকট ও দুর্নীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মড়লডোবা এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমার সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন, জানার চেষ্টা করবেন। আমি যদি এমপি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে সরকার থেকে আমার এলাকার জন্য যে বরাদ্দ আসবে, তা বিলবোর্ডের মাধ্যমে জনগণকে জানিয়ে দেব। কোন খাতে কত বরাদ্দ এসেছে, তা সবাই জানতে পারবেন। আবার কাজ শেষ হওয়ার পর কী কী কাজ হয়েছে, সেটিও জানিয়ে দেব। আমি নিজেকে এবং ঠাকুরগাঁওকে জবাবদিহির জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।”
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সমালোচনা করে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকা ও নিয়মিত লোডশেডিংয়ের পরও গ্রাহকদের উচ্চহারে বিল দিতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুৎ বিল দেখে মনে হয়, গ্রাহক তিন-চার গুণ বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। তিনি এ পরিস্থিতিকে ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’ বলে আখ্যায়িত করেন।
কৃষকদের সার সংকটের বিষয়ে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের জন্য ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এত টাকা বিনিয়োগ করে ডিলার হওয়া ব্যক্তিরা কৃষকদের সেবা করবেন, নাকি প্রথমে নিজেদের বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে তিনি জানতে পেরেছেন। নির্বাচন সামনে রেখে তালিকা প্রকাশ না করার পেছনে অনিয়ম থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণের কথা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়েছে বলে দাবি করেন দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর মতে, এতে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “যে দল কৃষককে সার দিতে পারে না, মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারে না, অথচ কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়—সেই দলকে মানুষ কেন ভোট দেবে?”
আগামী ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, “আপনারা যদি মনে করেন, আপনাদের ওপর অন্যায়, জুলুম ও শোষণ করা হয়েছে, তাহলে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তার জবাব দেবেন।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা মানুষ জানে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর আঘাত করা বা তাঁদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাকে দলটি সমর্থন করে না বলেও দাবি করেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী কখনো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ক্ষতি করেনি দাবি করে তিনি বলেন, তাঁদের দলের কেউ চাঁদা দাবি করেছেন, লুটপাট করেছেন কিংবা মিথ্যা মামলা দিয়েছেন—এমন অভিযোগ কেউ করতে পারবেন না।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আরও বেশি কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াতে ইসলামীর এই প্রার্থী।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এমপি হলে সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়নকাজের হিসাব বিলবোর্ডে প্রকাশ করব: দেলাওয়ার হোসেন

আপডেট সময়ঃ ০৮:১৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দ ও এলাকার উন্নয়নকাজের বিস্তারিত তথ্য বিলবোর্ডের মাধ্যমে জনগণের সামনে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সার সংকট ও দুর্নীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মড়লডোবা এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমার সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন, জানার চেষ্টা করবেন। আমি যদি এমপি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে সরকার থেকে আমার এলাকার জন্য যে বরাদ্দ আসবে, তা বিলবোর্ডের মাধ্যমে জনগণকে জানিয়ে দেব। কোন খাতে কত বরাদ্দ এসেছে, তা সবাই জানতে পারবেন। আবার কাজ শেষ হওয়ার পর কী কী কাজ হয়েছে, সেটিও জানিয়ে দেব। আমি নিজেকে এবং ঠাকুরগাঁওকে জবাবদিহির জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।”
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সমালোচনা করে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকা ও নিয়মিত লোডশেডিংয়ের পরও গ্রাহকদের উচ্চহারে বিল দিতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুৎ বিল দেখে মনে হয়, গ্রাহক তিন-চার গুণ বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। তিনি এ পরিস্থিতিকে ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’ বলে আখ্যায়িত করেন।
কৃষকদের সার সংকটের বিষয়ে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের জন্য ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এত টাকা বিনিয়োগ করে ডিলার হওয়া ব্যক্তিরা কৃষকদের সেবা করবেন, নাকি প্রথমে নিজেদের বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে তিনি জানতে পেরেছেন। নির্বাচন সামনে রেখে তালিকা প্রকাশ না করার পেছনে অনিয়ম থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণের কথা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়েছে বলে দাবি করেন দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর মতে, এতে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “যে দল কৃষককে সার দিতে পারে না, মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারে না, অথচ কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়—সেই দলকে মানুষ কেন ভোট দেবে?”
আগামী ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, “আপনারা যদি মনে করেন, আপনাদের ওপর অন্যায়, জুলুম ও শোষণ করা হয়েছে, তাহলে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তার জবাব দেবেন।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা মানুষ জানে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর আঘাত করা বা তাঁদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাকে দলটি সমর্থন করে না বলেও দাবি করেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী কখনো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ক্ষতি করেনি দাবি করে তিনি বলেন, তাঁদের দলের কেউ চাঁদা দাবি করেছেন, লুটপাট করেছেন কিংবা মিথ্যা মামলা দিয়েছেন—এমন অভিযোগ কেউ করতে পারবেন না।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আরও বেশি কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াতে ইসলামীর এই প্রার্থী।