০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাগমারায় যে কারণে বিজয়ী হলেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী

শামীম রেজা
  • আপডেট সময়ঃ ১০:৩৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি
রাজশাহীর রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী। দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ডি. এম. জিয়াউর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৮৬১ ভোট।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী তাজুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৬৭০ ভোট এবং জাতীয় পার্টি-এর প্রার্থী ফজলুল হক লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫৯ ভোট। মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৬টি, বাতিল ভোট ৪ হাজার ৭৮৪। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৩১ হাজার ১৯০ এবং ভোটের হার ছিল ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন।

বিজয়ের পেছনের কারণ-
নির্বাচনী মাঠে শুরু থেকেই ডা. আব্দুল বারী নিজেকে একজন সেবামূলক ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘ মানবিক ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত। অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, গ্রামভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ তার পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ভোটারদের একাংশ মনে করেন।

প্রচারণায় তিনি “ন্যায়-ইনসাফ ও মাদকমুক্ত বাগমারা” গড়ার অঙ্গীকার করেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে মাদকবিরোধী অবস্থান, কর্মসংস্থানের উদ্যোগ এবং শিক্ষা-সচেতনতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করার আহ্বান তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে।

নির্বাচনী প্রচারে তিনি ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ধারাবাহিক গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করেন। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় তার প্রচারণাকে গতিশীল করে। মাঠপর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় উপস্থিতিও তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নির্বাচনে নানা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তনের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং সংগঠিত প্রচারণা—এই তিনটি বিষয় ডা. আব্দুল বারীর বিজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাগমারার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নবনির্বাচিত এই প্রতিনিধি কতটা সফল হন।

 

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারায় যে কারণে বিজয়ী হলেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী

আপডেট সময়ঃ ১০:৩৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাগমারা প্রতিনিধি
রাজশাহীর রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী। দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ডি. এম. জিয়াউর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৮৬১ ভোট।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী তাজুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৬৭০ ভোট এবং জাতীয় পার্টি-এর প্রার্থী ফজলুল হক লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫৯ ভোট। মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৬টি, বাতিল ভোট ৪ হাজার ৭৮৪। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৩১ হাজার ১৯০ এবং ভোটের হার ছিল ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন।

বিজয়ের পেছনের কারণ-
নির্বাচনী মাঠে শুরু থেকেই ডা. আব্দুল বারী নিজেকে একজন সেবামূলক ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘ মানবিক ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত। অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, গ্রামভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ তার পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ভোটারদের একাংশ মনে করেন।

প্রচারণায় তিনি “ন্যায়-ইনসাফ ও মাদকমুক্ত বাগমারা” গড়ার অঙ্গীকার করেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে মাদকবিরোধী অবস্থান, কর্মসংস্থানের উদ্যোগ এবং শিক্ষা-সচেতনতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করার আহ্বান তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে।

নির্বাচনী প্রচারে তিনি ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ধারাবাহিক গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করেন। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় তার প্রচারণাকে গতিশীল করে। মাঠপর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় উপস্থিতিও তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নির্বাচনে নানা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তনের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং সংগঠিত প্রচারণা—এই তিনটি বিষয় ডা. আব্দুল বারীর বিজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাগমারার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নবনির্বাচিত এই প্রতিনিধি কতটা সফল হন।