০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনে বাগমারায় বিএনপি প্রার্থী জিয়াকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ

শামীম রেজা
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২৮ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডি এম জিয়াউর রহমান জিয়াকে দ্বিতীয়বারের মতো লিখিত কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পায়, বাগমারা উপজেলার বানাইপুর, বিনোপাড়া, বানাইপুর মোড়, হাটগাঙ্গোপাড়া বাজার, বাইগাছা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপর বাঁশ দিয়ে তোরণ নির্মাণ করে নির্বাচনী ব্যানার ঝুলানো হয়েছে। পাশাপাশি হাসনাবাদ, নামাযগ্রাম, কুমানিতলা, আচিনঘাট, মাদারীগঞ্জ বাজার, মহব্বতপুর মোড়, শিবজাইট বাজার, নরদাশ বাজার, বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা এবং হাটগাঙ্গোপাড়া থেকে কামারপাড়া সড়কের পাশে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে প্রচারণার ফেস্টুন সাঁটানোর আলামত পাওয়া যায়।

নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির মতে, এসব কর্মকাণ্ড সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৩(ক) ও বিধি ৭(গ)-এর সরাসরি লঙ্ঘন। বিধিমালা অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনী গেইট বা তোরণ নির্মাণ করতে পারবেন না এবং গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় পোস্টার বা ফেস্টুন লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এ ঘটনায় The Representation of the People Order, 1972-এর Article 91A অনুযায়ী অনুসন্ধান কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ২৬ অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ডকে ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের মাধ্যমে ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’-এর অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সুপারিশ করা হবে না—সে বিষয়ে আগামী ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে স্বশরীরে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে কারণ দর্শানোর নোটিশটি দ্রুত জারি ও জারী প্রতিবেদন অতি-সত্ত্বর দাখিলের জন্য বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও সম্প্রতি একই প্রার্থী ডি এম জিয়াউর রহমান জিয়াকে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সর্বশেষ নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির পক্ষ থেকে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে ধানের শীষের এককর্মীকে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগমারায় আচরণ বিধিমালা বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনে বাগমারায় বিএনপি প্রার্থী জিয়াকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ

আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডি এম জিয়াউর রহমান জিয়াকে দ্বিতীয়বারের মতো লিখিত কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পায়, বাগমারা উপজেলার বানাইপুর, বিনোপাড়া, বানাইপুর মোড়, হাটগাঙ্গোপাড়া বাজার, বাইগাছা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপর বাঁশ দিয়ে তোরণ নির্মাণ করে নির্বাচনী ব্যানার ঝুলানো হয়েছে। পাশাপাশি হাসনাবাদ, নামাযগ্রাম, কুমানিতলা, আচিনঘাট, মাদারীগঞ্জ বাজার, মহব্বতপুর মোড়, শিবজাইট বাজার, নরদাশ বাজার, বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা এবং হাটগাঙ্গোপাড়া থেকে কামারপাড়া সড়কের পাশে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে প্রচারণার ফেস্টুন সাঁটানোর আলামত পাওয়া যায়।

নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির মতে, এসব কর্মকাণ্ড সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৩(ক) ও বিধি ৭(গ)-এর সরাসরি লঙ্ঘন। বিধিমালা অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনী গেইট বা তোরণ নির্মাণ করতে পারবেন না এবং গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় পোস্টার বা ফেস্টুন লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এ ঘটনায় The Representation of the People Order, 1972-এর Article 91A অনুযায়ী অনুসন্ধান কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ২৬ অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ডকে ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের মাধ্যমে ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’-এর অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সুপারিশ করা হবে না—সে বিষয়ে আগামী ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে স্বশরীরে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে কারণ দর্শানোর নোটিশটি দ্রুত জারি ও জারী প্রতিবেদন অতি-সত্ত্বর দাখিলের জন্য বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও সম্প্রতি একই প্রার্থী ডি এম জিয়াউর রহমান জিয়াকে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সর্বশেষ নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির পক্ষ থেকে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে ধানের শীষের এককর্মীকে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগমারায় আচরণ বিধিমালা বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।