০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বানারীপাড়ায় অসুস্থ শিশুকন্যাকে মায়ের জিম্মায় দেওয়াকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১০:০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে।

শিশুটির চিকিৎসাসেবা ও সুরক্ষায় মানবিক ভূমিকা পালন করেছিল পুলিশ।

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:
​বরিশালের বানারীপাড়ায় অসুস্থ এক শিশুকন্যাকে তার মায়ের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূলত পারিবারিক বিরোধের জেরে পুলিশকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এ ধরনের কাল্পনিক মামলার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। অথচ পুলিশ ও শিশুটির মায়ের স্পষ্ট বক্তব্য এবং পারিপার্শ্বিক সত্যতা থেকে প্রমাণিত হয় যে, শিশুটির সুচিকিৎসা এবং নিরাপত্তার স্বার্থেই সেদিন সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের ফকিরবাড়ির বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি জালিছ মাহমুদ বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদকে সুনির্দিষ্ট এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাদী জালিছ মাহমুদ তার স্ত্রী পপি আক্তারকে তালাক দেওয়ার পর পপি তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন। পরবর্তীতে বাদী বকেয়া খোরপোষ ও দেনমোহর পরিশোধ করে আদালত থেকে খালাস পান। তাদের দাম্পত্য জীবনে হুমায়রা জান্নাত নামের প্রায় তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শিশুর মা পপি আক্তার জানান, তার কন্যাসন্তানটিকে মাত্র দুই দিনের কথা বলে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছিল। বাচ্চার খোঁজ নিতে তিনি থানায় গিয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হন। বাচ্চাটি অত্যন্ত ছোট (বয়স মাত্র ২ বছর ৮ মাস) ও মারাত্মক অসুস্থ হওয়ায় মায়ের কাছেই যে তার জীবন নিরাপদ—এমন যুক্তিতে তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান। তিনি আরও জানান, শিশুটির সুচিকিৎসা ও মায়ের কাছে ফেরার আকুলতার বিষয়টি বিবেচনা করে এবং বাবা জালিছ মাহমুদ শিশুটি মায়ের কাছে নিরাপদ নয়—এমন কোনো বৈধ কাগজ বা প্রমাণ দেখাতে না পারায় থানা পুলিশ শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় ফিরিয়ে দেয়।
​ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানা যায়, পুলিশ অত্যন্ত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে শিশুটিকে একাধিকবার তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অবুঝ শিশুটি তার বাবার কাছে যেতে তীব্র অস্বীকৃতি জানায় এবং কান্নাকাটি করে স্বেচ্ছায় মায়ের কাছেই চলে যায়। একজন শিশুর শারীরিক অসুস্থতা, তার বয়স এবং তার না যাওয়ার জেদের বিষয়টি বিবেচনা করেই পুলিশ তখন শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় দেয়। ​এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, “মামলায় আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাত্র দুই বছর আট মাস বয়সী শিশুসন্তানটি মারাত্মক অসুস্থ ছিল এবং মাতৃস্নেহে তার দ্রুত সুস্থ হওয়া প্রয়োজন ছিল। মা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ করেন যে, তার বাচ্চাকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং শিশুটির স্বাস্থ্য ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করে পুলিশ কেবল মানবিক ও আইনগত দায়িত্ব পালন করেছে। বাদীর নামে থানায় কোনো মিথ্যা মামলা বা হয়রানির ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে একটি শিশুর জীবন, সুচিকিৎসা ও সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মাত্র।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বানারীপাড়ায় অসুস্থ শিশুকন্যাকে মায়ের জিম্মায় দেওয়াকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা

আপডেট সময়ঃ ১০:০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

শিশুটির চিকিৎসাসেবা ও সুরক্ষায় মানবিক ভূমিকা পালন করেছিল পুলিশ।

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:
​বরিশালের বানারীপাড়ায় অসুস্থ এক শিশুকন্যাকে তার মায়ের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূলত পারিবারিক বিরোধের জেরে পুলিশকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এ ধরনের কাল্পনিক মামলার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। অথচ পুলিশ ও শিশুটির মায়ের স্পষ্ট বক্তব্য এবং পারিপার্শ্বিক সত্যতা থেকে প্রমাণিত হয় যে, শিশুটির সুচিকিৎসা এবং নিরাপত্তার স্বার্থেই সেদিন সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের ফকিরবাড়ির বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি জালিছ মাহমুদ বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদকে সুনির্দিষ্ট এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাদী জালিছ মাহমুদ তার স্ত্রী পপি আক্তারকে তালাক দেওয়ার পর পপি তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন। পরবর্তীতে বাদী বকেয়া খোরপোষ ও দেনমোহর পরিশোধ করে আদালত থেকে খালাস পান। তাদের দাম্পত্য জীবনে হুমায়রা জান্নাত নামের প্রায় তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শিশুর মা পপি আক্তার জানান, তার কন্যাসন্তানটিকে মাত্র দুই দিনের কথা বলে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছিল। বাচ্চার খোঁজ নিতে তিনি থানায় গিয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হন। বাচ্চাটি অত্যন্ত ছোট (বয়স মাত্র ২ বছর ৮ মাস) ও মারাত্মক অসুস্থ হওয়ায় মায়ের কাছেই যে তার জীবন নিরাপদ—এমন যুক্তিতে তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান। তিনি আরও জানান, শিশুটির সুচিকিৎসা ও মায়ের কাছে ফেরার আকুলতার বিষয়টি বিবেচনা করে এবং বাবা জালিছ মাহমুদ শিশুটি মায়ের কাছে নিরাপদ নয়—এমন কোনো বৈধ কাগজ বা প্রমাণ দেখাতে না পারায় থানা পুলিশ শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় ফিরিয়ে দেয়।
​ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানা যায়, পুলিশ অত্যন্ত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে শিশুটিকে একাধিকবার তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অবুঝ শিশুটি তার বাবার কাছে যেতে তীব্র অস্বীকৃতি জানায় এবং কান্নাকাটি করে স্বেচ্ছায় মায়ের কাছেই চলে যায়। একজন শিশুর শারীরিক অসুস্থতা, তার বয়স এবং তার না যাওয়ার জেদের বিষয়টি বিবেচনা করেই পুলিশ তখন শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় দেয়। ​এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, “মামলায় আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাত্র দুই বছর আট মাস বয়সী শিশুসন্তানটি মারাত্মক অসুস্থ ছিল এবং মাতৃস্নেহে তার দ্রুত সুস্থ হওয়া প্রয়োজন ছিল। মা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ করেন যে, তার বাচ্চাকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং শিশুটির স্বাস্থ্য ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করে পুলিশ কেবল মানবিক ও আইনগত দায়িত্ব পালন করেছে। বাদীর নামে থানায় কোনো মিথ্যা মামলা বা হয়রানির ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে একটি শিশুর জীবন, সুচিকিৎসা ও সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মাত্র।