১০:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এক যুগে বিএসএফের গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশি

রহমত আরিফ
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:১৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে।

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন সীমান্তে গত এক যুগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)–এর গুলিতে অন্তত ২৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত তিনজনের মধ্যে আসাদুল হক (৩৮) ও মোস্তাকিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতে মারা যান। অপর আহত শ্রী উদা রায়কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আটক করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কৃষিকাজ, ঘাস কাটা, মাছ ধরা কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার মতো কাজেও সীমান্তের কাছাকাছি গেলে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গীসহ বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে একাধিক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় কখনো মরদেহ সীমান্তের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে, আবার কখনো ভারতের ভেতর থেকে মরদেহ ফেরত আনা হয়েছে।
বিজিবি ও বিএসএফের পক্ষ থেকে অনেক ঘটনায় নিহতদের বিরুদ্ধে চোরাকারবারি বা অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টার অভিযোগ করা হলেও পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আখলাকুর রহমান বলেন, সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা প্রাণহানির অন্যতম কারণ। সীমান্তবাসীকে সচেতন করতে স্থানীয় ইমাম, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সীমান্তে প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবি কাজ করছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইড অফিস জানিয়েছে, কোনো ভুক্তভোগী পরিবার আইনি সহায়তা চাইলে বিনা খরচে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এক যুগে বিএসএফের গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশি

আপডেট সময়ঃ ০৫:১৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন সীমান্তে গত এক যুগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)–এর গুলিতে অন্তত ২৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত তিনজনের মধ্যে আসাদুল হক (৩৮) ও মোস্তাকিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতে মারা যান। অপর আহত শ্রী উদা রায়কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আটক করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কৃষিকাজ, ঘাস কাটা, মাছ ধরা কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার মতো কাজেও সীমান্তের কাছাকাছি গেলে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গীসহ বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে একাধিক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় কখনো মরদেহ সীমান্তের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে, আবার কখনো ভারতের ভেতর থেকে মরদেহ ফেরত আনা হয়েছে।
বিজিবি ও বিএসএফের পক্ষ থেকে অনেক ঘটনায় নিহতদের বিরুদ্ধে চোরাকারবারি বা অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টার অভিযোগ করা হলেও পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আখলাকুর রহমান বলেন, সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা প্রাণহানির অন্যতম কারণ। সীমান্তবাসীকে সচেতন করতে স্থানীয় ইমাম, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সীমান্তে প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবি কাজ করছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইড অফিস জানিয়েছে, কোনো ভুক্তভোগী পরিবার আইনি সহায়তা চাইলে বিনা খরচে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।