তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী পবার হরিয়ান বাজারের এক সার ডিলারকে সার পাচারের অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে হরিয়ান বাজারের মেসার্স সাইদুর ট্রেডার্সে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ইবনুল আবেদীন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২ বস্তা বিভিন্ন রকম রাসায়নিক সার আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সরকারি সার নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ডিলার সাইদুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার শিকার সাইদুর রহমান ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক। সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান,, কৃষকের জমিতে পৌঁছানোর কথা সরকারি বরাদ্দের সার। অথচ সেই সার কৃষকের হাতে না দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে চড়া দামে বিক্রি করে আসছে মেসার্স সাইদুর টেড্রার্স।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে সরকারি সার কিনতে গিয়ে তাঁরা নানা সমস্যার মুখে পড়ছিলেন। প্রয়োজনের সময় ডিলারের কাছে সার না পেয়ে অনেক কৃষককে অন্য জায়গা থেকে তুলনামূলক বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। এতে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফসলের উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। এর মধ্যে সরকারি বরাদ্দের সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষকেরা টিএসপি ও অন্যান্য রাসায়নিক সারসহ ১২ বস্তা সার আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। খবর পেয়ে ইউএনও ইবনুল আবেদীন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলোর মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহের বিষয়ে খোঁজ নেন।
অভিযানে সরকারি বরাদ্দের সার নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। পরে ডিলার সাইদুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা করা হয়।
এদিকে স্থানীয় কৃষকেরা অভিযুক্ত ডিলার মেসার্স সাইদুর টেড্রার্সের লাইসেন্স বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগের দাবি জানান।তারা বলেন, এটা গরু পাপে লঘু দন্ড।কারণ দীর্ঘদিন যাবত সে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত।
এবিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন বলেন, কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার কোনোভাবেই অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে বিক্রি করা যাবে না। সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ডিলারদের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখা হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি সার পাচার, কালোবাজারি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো চেষ্টা প্রশাসন মেনে নেবে না। কৃষকের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। হরিয়ান বাজারের ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকারি সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এবিষয়ে হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক বাদশা মিয়া বলেন, কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ডিলারের ডিলারশিপের বিষয়টি তদন্ত করে দোষী সাব্যস্ত হলে কঠর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, সরকারি সার বিতরণে অনিয়ম হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা। তাঁদের অনেকেরই বেশি দামে সার কেনার সামর্থ্য নেই। তাই সরকারি বরাদ্দের সার কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে বিতরণ এবং ডিলারদের মজুত ও বিক্রির হিসাব নিয়মিত তদারকির দাবি জানান তাঁরা।#
বার্তা ও মার্কেটিং বিভাগঃ 01332-844582 | ই-মেইলঃ admin@dainikpotherdisha.com
প্রধান কার্যালয়ঃ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, দ্বিতীয় তলা, দুর্গাপুর, রাজশাহী।
কর্পোরেট অফিসঃ ডি-৯, আল-আমিন আপন হাইট্স, প্লট নং-২৭/১/বি, রোড নং-৩, শ্যামলী, ঢাকা।
©২০২৫-২৬ দৈনিক পথের দিশা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। সকল কারিগরী সহযোগিতায়ঃ SuccessLifeiT.Com