সাংবাদিক অনিরাপদ—রাষ্ট্র কি নিরাপদ?
- আপডেট সময়ঃ ০৩:৪৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১২ বার পড়া হয়েছে।

শাহিনুর রহমান সুজন :
নির্বাচনের সময় সাংবাদিকরা কেন বারবার হামলার শিকার হন—এই প্রশ্ন কি রাষ্ট্র কখনো নিজেকে করেছে?
নাকি সত্যটা এতটাই অস্বস্তিকর যে প্রশ্ন তোলার আগেই নীরবতা বেছে নেওয়াই নিরাপদ মনে হয়?
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানির আশঙ্কা এখন আর গুজব নয়—এটি বাস্তবতা। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের টার্গেট করছে। উদ্দেশ্য পরিষ্কার—সত্যকে ভয় দেখানো, তথ্যকে আটকে রাখা, আর নির্বাচনকে প্রশ্নহীন করে রাখা।
প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্র তখন কোথায়?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি কেবল পোস্টার পাহারা দেওয়ার জন্য?
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব কি শুধু ভোটের তারিখ ঘোষণা করা?
আর সরকার—তাদের দায় কি শুধু “পরিস্থিতি স্বাভাবিক” বলা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ?
সংবিধান সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বাধীনতা আজ রাস্তায়, ভোটকেন্দ্রে, মাঠে-ময়দানে রক্তাক্ত ও ভীত। একজন সাংবাদিক যখন ক্যামেরা হাতে বের হন, তখন তাঁর মাথায় প্রথম যে প্রশ্নটি আসে—“আজ নিরাপদে ফিরতে পারব তো?”—তখন সেটি শুধু ব্যক্তিগত আতঙ্ক নয়, এটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার দলিল।
আরও ভয়াবহ হলো—হামলার পর ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতি। অধিকাংশ ঘটনায় তদন্ত নেই, বিচার নেই, জবাবদিহি নেই। এতে করে হামলাকারীরা উৎসাহ পায়, আর সাংবাদিকরা বাধ্য হন আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে। রাষ্ট্র কি তাহলে নিজের দায়িত্ব সাংবাদিকদের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছে?
আমরা আজ বাধ্য হয়ে বলছি—
🛑 সাংবাদিকতা যদি জীবননাশের ঝুঁকি হয়, তবে তা রাষ্ট্রের লজ্জা।
একজন সাংবাদিক নিরাপদ না হলে, নির্বাচনও নিরাপদ নয়।
সত্য যদি পাহারা ছাড়া থাকে, তবে গণতন্ত্র একটি ফাঁকা শব্দ মাত্র।
এই সম্পাদকীয় থেকে আমরা সরাসরি দাবি জানাচ্ছি—
রাষ্ট্রকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কী করছে।
হামলার প্রতিটি ঘটনায় অবিলম্বে মামলা, তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনী মাঠে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘোষণা দিতে হবে।
নইলে প্রশ্ন থেকে যাবে— রাষ্ট্র কি সত্য চায়, না কেবল নীরবতা? নির্বাচন কি জনগণের, নাকি ভয়ের ছায়ায় পরিচালিত এক আনুষ্ঠানিকতা? গণতন্ত্র বন্দুক দিয়ে নয়, ভয় দিয়ে নয়— চলে সত্য দিয়ে। আর সেই সত্যের প্রথম পাহারাদার যদি নিরাপদ না থাকে,
তবে রাষ্ট্র নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ।



















