পাবনায় গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত
- আপডেট সময়ঃ ০২:২৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৪৬ বার পড়া হয়েছে।

পাবনার সুজানগরে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে সাগর শেখ ওরফে মাসুদ রানা (২৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার তাঁতিবন্ধ ইউনিয়নের রেলস্টেশন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ভোর ৫টার দিকে এ গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।নিহত সাগর নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসামপুর এলাকার আব্দুল মতিন শেখের ছেলে। পেশায় তিনি কাঠমিস্ত্রী ও ভ্যানচালক ছিলেন। পলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৪টার দিকে নিহত সাগরসহ দুই-তিনজন তাঁতিবন্ধ স্টেশন এলাকার নজরুল ইসলামের বাড়িতে গরু চুরি করতে যান। এ সময় বাড়ির মালিক নজরুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার করলে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে সম্রাট বাহিনীর প্রধান গণপিটুনিতে নিহত, আগ্নেয়াস্ত্রসহ সহযোগী আটক নিহতের শরীরে অর্ধশতাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মাথায় ও পায়ে একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, পাবনা সদরের প্রায় এলাকায় গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। এলাকার কৃষক ও খামারিরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত গরু চুরি হলেও প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাঁতিবন্ধ এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহলের ইন্দনে প্রায়ই গরু চোর আসে। আজকে ধরা পরলে উৎসুক জনতা পিটুনি দিয়েছেন। সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গণপিটুনি, ছিনতাইকারী নিহত তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি গরু চুরি করতে এসে গণপিটুতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন হাতে তুলে নেয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধীকে ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।’
উল্লেখ্য, পাবনা সদরের ভাঁড়ারা ইউনিয়ন থেকে গত দেড় বছরে শতাধিক গরু চুরি হয়েছে। প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি এক বিশাল মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতেও চরতারাপুর ইউনিয়নের কাঁচিপাড়া থেকে দুটি গরু চুরি হয়েছে। জেলাজুড়েই আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন খামারিরা।



















