দুর্গন্ধে ঘরে মিলল অর্ধগলিত লাশ—চারঘাটে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু
- আপডেট সময়ঃ ০৯:০১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাড়ির লোহার গেট ও শয়নকক্ষ ভেতর থেকে লাগানো। শয়নকক্ষের বিছানায় পড়ে ছিল মরদেহ। মরদেহের চারপাশে মাছি ভনভন করছিল। দুর্গন্ধের কারণে নাকে কাপড় চেপে জানালা দিয়ে মরদেহ দেখতে উঁকি দিচ্ছিলেন গ্রামের মানুষ। সোমবার দিবাগত রাতে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে এমন একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে মরদেহটি দাফন করা হয়েছে।
মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম মিজানুর রহমান রিপন (৫২)। তিনি ওই গ্রামের মৃত নুরুল আজীম মন্ডলের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে পরিবার বা প্রতিবেশীদের কেউ কিছু বলতে পারছেন না। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, পুলিশও নিশ্চিত নয়। তবে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিপন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পড়াশোনা শেষ করে পারিবারিক জমিজমা দেখাশোনা করতেন। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া সম্পদ থাকার কারণে তার অভাব অনটন ছিল না। কিন্তু তিনি মাদকের নেশায় আসক্ত ছিলেন। মাদক সেবন করে স্ত্রী ও স্বজনদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন। এ কারণে দুই কন্যা সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী রাজশাহী শহরে থাকতেন। রিপন বাসায় একা রান্না করতেন, একাই থাকতেন। তিন-চার দিন পর পর বাড়ি থেকে বের হতেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে।
রবিবার সন্ধার দিকে রিপনের শোবার ঘর থেকে পঁচা দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন বিছানার উপরে তিনি শুয়ে আছেন কিন্তু নড়াচড়া করছেন না। পঁচা দুর্গন্ধের পাশাপাশি শরীরের উপরে মাছিও ভনভন করছে। পরে তার স্ত্রীকে ফোন করলে তিনি রাজশাহী শহর থেকে আসেন এবং থানা থেকে পুলিশও আসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির গেট ও শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করেন।
রিপনের স্ত্রী আলপনা সাহাদ বলেন, আমার স্বামী উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগে ভুগছিল। আমি দুই মেয়ের পড়াশোনা জন্য দুই মেয়েসহ রাজশাহী শহরে থাকি। উনার সঙ্গে সর্বশেষ ১১ ফেব্রুয়ারী ফোনে কথা হয়েছে। এরপর থেকে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। স্বজনদের ফোন পেয়ে এসে দরজা ভেঙে দেখি বিছানায় তার মরদেহ পড়ে আছে। আমরা ধারণা করছি উচ্চ রক্তচাপ জনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, রিপন এলাকার মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত একজন মানুষ ছিল। সে পুরো বাড়িতে একাই থাকতো। পরিবারের সাথে তেমন যোগাযোগ ছিল না। পাড়া প্রতিবেশী কারো সাথে মিশতো না। ২৪ ঘন্টা ঘরবন্দী থাকতো। মাদকাসক্ত ছিল বলে শুনেছি। লাশের দুর্গন্ধ ছড়ানোর পর স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা ঘরের কাছে জড়ো হয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে।
এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন ফারুকী বলেন, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।



















