১১:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

তানোরে বেশি টাকা দিয়েও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৭০ বার পড়া হয়েছে।
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে সারা দেশের মতো এলপিজি রান্নার গ্যাস (সিলিন্ডার) সংকটের প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের তীব্র সংকটে ঘরে ঘরে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও সিলিন্ডার মিলছে না, এমনকি  কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
সরেজমিন তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজার, মুন্ডুমালা পৌর সদরের মুন্ডুমালা হাট, চৌবাড়িয়া হাট, কালীগঞ্জহাট, তালন্দ হাট ও দরগাডাঙা হাট এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, এলপিজি গ্যাসের অভাবে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। এতে রান্নার সমস্যার সাময়িক সমাধান হলেও বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। খুচরা দোকানগুলোয় ঘুরেও কোথাও গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
যদিওবা কোথাও পাওয়া যাচ্ছে তবে দাম অনেক বেশী ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নেয়া হচ্ছে এক হাজার পাঁচশ” টাকা।
স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলারদের পক্ষ থেকে নিয়মিত সিলিন্ডার সরবরাহ না থাকায় দোকানগুলোয় সংকট দেখা দিয়েছে।এছাড়াও তাদের কাছে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নিচ্ছেন এক হাজার সাড়ে চারশ” টাকা।ফলে তারা এক হাজার পাঁচশ”টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করছেন।এতে বিভিন্ন এলাকার  বাসাবাড়িতে রান্নার বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলার ব্যবহার বাড়ছে।
এদিকে সাধারণ ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, গ্যাস সংকটের’ সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলপিজি খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন করে এলপিজি বহনকারী জাহাজ দেশে না আসা পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি কাটবে না। চলতি মাসে একটি জাহাজ আসার কথা থাকলেও সেটি না এলে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েও সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এলপিজি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। জেলার বিভিন্ন অটোগ্যাস স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় এলপিজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে পাইপলাইনে গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোয়ও দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় চালকরা পূর্ণ গ্যাস পাচ্ছেন না। স্থানীয় অটো রিকশাচালক  নিশান হোসেন বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অর্ধেক গ্যাস পাই। দিনে কয়েকবার লাইনে দাঁড়াতে হয়, ফলে আয় অর্ধেকে নেমে গেছে।
এদিকে স্টেশন মালিকরা জানান, চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্টেশন চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে যানবাহনে বাধ্য হয়ে অকটেন ব্যবহার করছেন।#
ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে বেশি টাকা দিয়েও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার

আপডেট সময়ঃ ০৮:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে সারা দেশের মতো এলপিজি রান্নার গ্যাস (সিলিন্ডার) সংকটের প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের তীব্র সংকটে ঘরে ঘরে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও সিলিন্ডার মিলছে না, এমনকি  কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
সরেজমিন তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজার, মুন্ডুমালা পৌর সদরের মুন্ডুমালা হাট, চৌবাড়িয়া হাট, কালীগঞ্জহাট, তালন্দ হাট ও দরগাডাঙা হাট এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, এলপিজি গ্যাসের অভাবে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। এতে রান্নার সমস্যার সাময়িক সমাধান হলেও বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। খুচরা দোকানগুলোয় ঘুরেও কোথাও গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
যদিওবা কোথাও পাওয়া যাচ্ছে তবে দাম অনেক বেশী ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নেয়া হচ্ছে এক হাজার পাঁচশ” টাকা।
স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলারদের পক্ষ থেকে নিয়মিত সিলিন্ডার সরবরাহ না থাকায় দোকানগুলোয় সংকট দেখা দিয়েছে।এছাড়াও তাদের কাছে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নিচ্ছেন এক হাজার সাড়ে চারশ” টাকা।ফলে তারা এক হাজার পাঁচশ”টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করছেন।এতে বিভিন্ন এলাকার  বাসাবাড়িতে রান্নার বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলার ব্যবহার বাড়ছে।
এদিকে সাধারণ ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, গ্যাস সংকটের’ সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলপিজি খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন করে এলপিজি বহনকারী জাহাজ দেশে না আসা পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি কাটবে না। চলতি মাসে একটি জাহাজ আসার কথা থাকলেও সেটি না এলে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েও সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এলপিজি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। জেলার বিভিন্ন অটোগ্যাস স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় এলপিজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে পাইপলাইনে গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোয়ও দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় চালকরা পূর্ণ গ্যাস পাচ্ছেন না। স্থানীয় অটো রিকশাচালক  নিশান হোসেন বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অর্ধেক গ্যাস পাই। দিনে কয়েকবার লাইনে দাঁড়াতে হয়, ফলে আয় অর্ধেকে নেমে গেছে।
এদিকে স্টেশন মালিকরা জানান, চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্টেশন চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে যানবাহনে বাধ্য হয়ে অকটেন ব্যবহার করছেন।#