গোদাগাড়ীতে আইপিএল ঘিরে অনলাইন জুয়ার আসর, যুবসমাজ নিয়ে উদ্বেগ
- আপডেট সময়ঃ ০২:১২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩৬ বার পড়া হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে অনলাইন জুয়ার আসর জমে উঠেছে। সন্ধ্যা নামার পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই অবৈধ জুয়ার কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সূত্র জানায়, কিছু অসাধু অনলাইন বেটিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গোপনে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সহজে অর্থ উপার্জনের লোভ দেখিয়ে তরুণ ও যুবকদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। অনেক যুবক প্রথমে ছোট অঙ্কের বাজি ধরে শুরু করলেও পরে বড় অঙ্কের লেনদেনে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে অনেকেই আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন, পরিবারের সঞ্চয় নষ্ট হচ্ছে এবং ঋণের জালে আটকে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট গ্রুপে যুবকরা মোবাইল নিয়ে বসছেন। কেউ কেউ নিজ ঘরে বা দোকানের পেছনে লুকিয়ে অনলাইনে ম্যাচের প্রতি বল, ওভার, খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স কিংবা ম্যাচের ফলাফল নিয়ে বাজি ধরছেন। এই কার্যক্রম এতটাই গোপনে চলছে যে, প্রশাসনের পক্ষে নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভিভাবক ও সচেতন মহলে এ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেক অভিভাবক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ছেলেরা পড়াশোনা ছেড়ে জুয়ায় মেতে উঠছে। এভাবে চলতে থাকলে পুরো যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।” বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর প্রভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। জুয়ায় হেরে গিয়ে মানসিক চাপ, হতাশা এবং পারিবারিক কলহ বাড়ছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অনলাইন জুয়া শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, এটি পারিবারিক বন্ধন নষ্ট করছে এবং সমাজে অবক্ষয় ছড়িয়ে দিচ্ছে। আইপিএলের মতো জনপ্রিয় ইভেন্টকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দীর্ঘমেয়াদে তা তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলবে।
এলাকাবাসী প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, “নিয়মিত অভিযান, অনলাইন বেটিং অ্যাপ ব্লক করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।” সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা জোর দাবি জানিয়েছেন যাতে অবিলম্বে এই অবৈধ অনলাইন জুয়ার আসর বন্ধ করা হয় এবং জড়িত চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হয়।














