খোলা স্থানে মুরগির বিষ্ঠা ফেলা: গোদাগাড়ীতে জনদুর্ভোগ চরমে
- আপডেট সময়ঃ ০৪:০৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ১ বার পড়া হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে ফসলি জমি ও বিল এলাকায় খোলা স্থানে বিপুল পরিমাণ মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে তীব্র দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রভাবশালীদের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছেন কৃষকসহ সাধারণ মানুষ। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মুরগির বিষ্ঠা। চারপাশে অসহনীয় দুর্গন্ধ, যার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাজশাহীর একটি পরিচিত প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের বিভিন্ন পোল্ট্রি খামার থেকে এসব বর্জ্য এনে রাতের আঁধারে এখানে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন কার্যক্রম চলায় পুরো এলাকায় পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই বর্জ্য ফেলার ফলে শুধু দুর্গন্ধই নয়, মাছির উপদ্রবও ভয়াবহভাবে বেড়েছে। এসব মাছি ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি করছে। এছাড়া আশপাশের পুকুরে মাছ চাষের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় মৎস্যচাষীরা।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, “দুর্গন্ধে এখানে দাঁড়ানো যায় না। ফসলের জমি নষ্ট হচ্ছে, আর মাছির কারণে বাড়িতে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।”
অভিযোগ রয়েছে, কমলাপুর গ্রামের নুরুলের ছেলে হযরত আলীর নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিতেই এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। তিনি আদি-বর্গা হিসেবে জমিগুলো চাষ করেন এবং তার নিয়ন্ত্রণাধীন জমিতে নিয়মিত এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হযরত আলী উল্টো সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং মারমুখী আচরণ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, নাবিল গ্রুপের লোকজন রাতের আঁধারে এসব বর্জ্য ফেলে যায়।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও বিষয়টি জানাতে পরামর্শ দেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এর আগেও এ ধরনের ঘটনায় জরিমানা করা হয়েছে। তবুও সংশ্লিষ্টরা রাতের আঁধারে বর্জ্য ফেলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “তাদের ডাকা হয়েছে, তারা আসবে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অনুমতি নিয়ে এসব করা হচ্ছে—এমন দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, ফসলি জমিতে এভাবে মুরগির বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
















