কম আরএডিপি বাস্তবায়নে ক্ষতির শঙ্কা

- আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৯:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / ১১ বার পড়া হয়েছে।

ডিপিডি ডেক্সঃ
কম আরএডিপি বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির শঙ্কা সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) কম বাস্তবায়নে উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি শঙ্কা বেড়েছে। কারণ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কম হওয়ায় আগামীতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার পাশাপাশি দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধিও বাড়বে। তাছাড়া প্রকল্পের বাস্তবায়ন কম হওয়ায় কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাবে শ্রমিকদের জীবনমান কমে গেছে। ক্ষতি পোষাতে হলে মন্ত্রণালয়গুলোর বিশেষ তদারকি জরুরি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছরে বড় ধাক্কা লেগেছে উন্নয়ন কার্যক্রমে। সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) বরাদ্দ থাকার পরও প্রায় ৭৩ হাজার (৭২ হাজার ৭১৪) কোটি টাকা খরচ হয়নি। মোট প্রকল্প বাস্তবায়নের হার ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ওই হার গত ২০ বছরের মধ্যে নিম্ন। ওই সময়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এক বছরে ছয়টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিল। সেগুলোর আরএডিপি বাস্তবায়ন হার ৪০ শতাংশের কম। ফলে প্রকল্পকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান, অর্থপ্রবাহ এবং সরকারি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়িত্ব নেয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত, অধিক পর্যালোচনা, অর্থছাড়ে বিলম্ব এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় ধীরগতি, আর্থিক সংকট, ঠিকাদারদের পলায়ন, প্রকল্প পরিচালকদের স্বইচ্ছায় বদলিসহ নানা কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তলানি নেমে আসে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তার মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি, বৈদেশিক ঋণ ৮১ হাজার কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা ছিলো। কিন্তু অর্থবছর থেকে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছে। তার মধ্যে সরকারি তহবিলের ৯০ হাজার ৮৯৯ কোটি, বৈদেশিক ঋণের ৫৩ হাজার ৭৮ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৯ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। আর সংশোধিত এডিপিতে মোট বরাদ্দ থেকে ৭২ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়নি। তার মধ্যে সরকারি তহবিলের ৪৪ হাজার ১০১ কোটি, বৈদেশিক ঋণের ২৭ হাজার ৯২২ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিলের ৬৯০ কোটি টাকা রয়েছে।
সূত্র জানায়, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপিতে মোট দুই লাখ ৭৮ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু সংশোধিত এডিপিতে মোট বরাদ্দ দেয়া হয় দুই লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। তাতে বরাদ্দ ৫২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা কাটছাঁট হয় আর অর্থবছর শেষে আরো কম এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নে খারাপ অবস্থায় থাকায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৯টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৬৭৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। কিন্তু পুরো এক বছরে খরচ হয়েছে মাত্র এক হাজার ২৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। তাছাড়া স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১৫ প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল দুই হাজার ২৮৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। তার মধ্যে খরচ হয়েছে ৩৫০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৬ প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৪৬৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অর্থবছর শেষে খরচ হয়েছে ১৭৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ২ প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ৪২৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত খরচ হয় ১৩৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩২ দশমিক ০২ শতাংশ। জননিরাপত্তা বিভাগের ১৮ প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৬৩৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত খরচ হয় ৬৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের একটি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ৭৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থবছর শেষে খরচ হয় ২৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
এদিকে এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার আগেই অনেক প্রকল্প থেকে ঠিকাদাররা পালিয়ে যায়। অনেক প্রকল্প পরিচালক নিজে থেকেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে বদলি হয়ে যায়। আবার অনেক প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায়। তাছাড়া অনেক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তাই ছিল না। ফলে বেশি যাচাই-বাছাই করতে হয়েছে। ওসব কারণে প্রকল্পের গতি কম হওয়ায় সংশোধিত এডিপির বাস্তবায়ন এতো কম। এমনকি এখনো অনেক প্রকল্পে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করা যায়নি। তবে চলতি অর্থবছর গত অর্থবছরের মতো অজুহাত দেয়ার সুযোগ নেই। এবার শুরু থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।